প্রায়শ দেখা যায়, জাতিব্রাহ্মণ ও ধর্মব্যবসায়ী দাম্ভিক ব্যক্তিগণ বৈষ্ণবের বর্ণ নিয়ে প্রশ্ন তোলার স্পর্ধা করেন এবং ধর্মানুগ ভক্তগণকে পথভ্রষ্ট করার চেষ্টা করেন। এরূপ ভাগবতদ্বেষীদের বিভ্রান্তিকর প্রচার নিরসনে এ লেখনি—
বৈষ্ণবের বর্ণ কি?
শ্রীমন্মধ্বাচার্য বর্ণকে দুইভাবে ব্যাখা করেছেন, যথা—
১) ঔপাধ্যায়িক বর্ণ (জন্ম দ্বারা জাতি)
২) পারমার্থিক বর্ণ (গুণ-কর্ম ভিত্তিক বর্ণ)
ঔপাধ্যায়িক বর্ণ:
দৈহিক জন্ম দ্বারা জাতিত্ব নির্ধারিত হয়। এর মধ্যে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র চারটি জাতি। এদের মধ্যে যদি এক জাতির সাথে অপর জাতির দৈহিক মিলন ঘটে তবে তাকে বর্ণসঙ্কর বলে। বর্ণসঙ্কর অনুলোম ও প্রতিলোম দুই প্রকার। ঔরসদাতা হলেন পিতা, গর্ভধারিণী হলেন মাতা। চণ্ডাল,পুলিন্দ, পুক্কস, খস, যবন, সৌন্ধ, কাম্বোজ, শবর, ক্ষর প্রভৃতি বর্ণসঙ্করের উদাহরণ।
পারমার্থিক বর্ণ (গুণ-কর্মানুসারে বর্ণ):
যস্য যল্লক্ষণং প্রোক্তং পুংসো বর্ণাভিব্যঞ্জকম্।
যদন্যত্রাপি দৃশ্যেত তৎ তেনৈব বিনির্দিশেৎ ৷
[শ্রীমদ্ভাগবতম ৭।১১। ৩৫]
অনুবাদ: যদি কেউ ভাগবত বর্ণনা অনুসারে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য এবং শূদ্রের লক্ষণগুলি প্রদর্শন করেন, তা হলে তাঁকে ভিন্ন বর্ণের বলে মনে হলেও এই লক্ষণ অনুসারে তাঁর বর্ণ নির্দিষ্ট হবে।
ব্যক্তি সদ্গুরু চয়ন করে তাঁর নিকট আশ্রিত হন। আশ্রিত ব্যক্তির গুণ পর্যবেক্ষণ করে গুরু তাকে মন্ত্রদান করেন। তখন গুরু হন পিতা, মাতা হলেন গায়ত্রীমন্ত্র। শিষ্য ব্রহ্মচর্য অবলম্বন করে গুরুগৃহে অবস্থান করেন এবং গুরু গুণবিচার করে তাদের বিদ্যাদান করেন। গুণ-কর্মানুসারে সে বর্ণপ্রাপ্ত হয়। বিশ্বামিত্রাদি মুনিগণ পারমার্থিক বর্ণ পরিচয়েই ত্রিলোক বিখ্যাত।
————————————————————————————————————————————————
বৈষ্ণবের বর্ণ:
বৈষ্ণবের গুণ-কর্মানুসারে বর্ণ হয় না। বৈষ্ণব গুণাতীত, কর্মবন্ধনহীন। তার সাথে ঘটন-অঘটন সবই শ্রীহরির ইচ্ছাধীন, মায়াধীন নন। বৈষ্ণব দীক্ষা দ্বারা শ্রীহরির বংশে ব্যক্তির যে জন্ম হয়, তা দ্বারা তার দ্বিজত্ব সিদ্ধ হয়। বৈষ্ণব দীক্ষা প্রাপ্ত ব্যক্তির ঔপাধ্যায়িক বর্ণের পরিবর্তে পারমার্থিক বর্ণ লাভ করেন। দেহগত গোত্রপরিচয় পরিবর্তিত হয়ে তাঁর গোত্র হয় ‘অচ্যুত গোত্র’ (ভাগবত ৪।২১।১২)। তাঁর বর্ণ হয় ‘বৈষ্ণব’ বর্ণ বা ‘হংস বর্ণ’৷
————————————————————————————————————————————————
বৈষ্ণবের গোত্র—
সর্বত্রাস্খলিতাদেশঃ সপ্তদ্বীপৈকদণ্ডধূক।
অন্যত্র ব্রাহ্মণকুলাদন্যত্রাচ্যুতগোত্রতঃ ॥
শ্রীমদ্ভাগবত ৪.২১.১২
অনুবাদ: মহারাজ পৃথু ছিলেন সপ্তদ্বীপ-সমন্বিত পৃথিবীর একচ্ছত্র সম্রাট। তাঁর অপ্রতিহত আদেশ সাধু, ব্রাহ্মণ ও অচ্যূতগোত্রভূক্ত বৈষ্ণব ব্যতীত অন্য কেউ লঙ্ঘন করতে পারত না।
|| অতএব, বৈষ্ণবের পরিচয় হলো—
পিতা: বৈষ্ণব দীক্ষাগুরু
কূল: হরিবংশ
গোত্র: অচ্যুত গোত্র
বর্ণ: হংস বর্ণ / বৈষ্ণব বর্ণ
————————————————————————————————————————————————
যেকোন বর্ণের ব্যক্তি বৈষ্ণব হলে দ্বিজে পরিণত হন। প্রমাণ—
বিষ্ণুভক্তাশ্চ যে কেচিৎ সর্ব্বে বর্ণা দ্বিজতয়ঃ।
কথিতং মম গার্গ্যেণ গৌতমেন সুমন্তুনা॥
[ স্কন্দপুরাণ, বিষ্ণুখন্ড, মার্গশীর্ষমাসমাহাত্ম্য, ১১।১৭, রাজা বীরবাহু উক্তি ]
অনুবাদ: যে কোন বর্ণের ব্যক্তি যদি বিষ্ণুভক্ত হন, তবে তিনিই দ্বিজ। এই কথা- গার্গ্য, গৌতম ও সুমন্তু আমার নিকট বলেছেন।
————————————————————————————————————————————————
বৈষ্ণব বর্ণ যে ব্রাহ্মণাদি চার বর্ণের বাইরে, পৃথক বর্ণ তার প্রমাণ—
ব্রহ্মক্ষত্রিয়বিটশূদ্রাশ্চতস্রো জাতয়ো যথা।
স্বতন্ত্রজাতিরেকা চ বিশ্বেষু বৈষ্ণবাভিধা॥
[ ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণ, ব্রহ্মখণ্ড, ১১।৪৩ ]
বঙ্গানুবাদঃ ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র নামে যেরূপ চারটি জাতি আছে তদ্রূপ সমগ্র বিশ্বে ‘বৈষ্ণব’ নামক একটি স্বতন্ত্র জাতি আছে।
ললাটাদ্বৈষ্ণবো জাতঃ ব্রাহ্মণো মুখদেশতঃ ৷
ক্ষত্রিয় বাহুমূলাচ্চ ঊরুদেশাচ্চ বৈশ্য বৈ ৷৷
জাতো বিষ্ণোঃ পদাচ্ছুদ্রঃ ভক্তিধর্ম্মবিবর্জিতঃ৷
তস্মাদ্বৈ বৈষ্ণবঃ খ্যাতঃ চতুর্ব্বর্ণেষু সত্তমঃ ৷৷
[ বৃহদ্বিষ্ণুযামল তন্ত্র ]
অনুবাদ: শ্রী ভগবান্ বিষ্ণুর ললাট হইতে বৈষ্ণব, মুখ হইতে ব্রাহ্মণ,বাহু হইতে ক্ষত্রিয়,ঊরুদেশ হইতে বৈশ্য ,পদদেশ হইতে ভক্তিধর্ম্মবিবর্জিত শূদ্রের উৎপত্তি হইয়াছে ৷ ইহার মধ্যে যিনি বৈষ্ণব বলিয়া খ্যাত, তিনি চতুর্বর্ণ হইতেও সর্বশ্রেষ্ঠ সর্বোত্তম ৷
————————————————————————————————————————————————
বৈষ্ণব ব্রাহ্মণাদি চার বর্ণের থেকেও শ্রেষ্ঠ। প্রমাণ-
‘সৰ্ব্বেষাষ্ণৈব বর্ণানাং বৈষ্ণবঃ শ্রেষ্ঠ উচ্যতে।’
[ পদ্মপুরাণ, উত্তরখন্ড, ৬৮।৪ ]
বঙ্গানুবাদঃ
সৰ্ব্ব বর্ণ মধ্যে বৈষ্ণবই শ্ৰেষ্ঠ বলিয়া কথিত।
তস্মাদ্বৈ বৈষ্ণবঃ খ্যাতঃ চতুর্ব্বর্ণেষু সত্তমঃ ৷৷
[ বৃহদ্বিষ্ণুযামল তন্ত্র ]
অনুবাদ :
যিনি বৈষ্ণব বলিয়া খ্যাত, তিনি চতুর্বর্ণ হইতে সর্বোত্তম ৷
ব্রাহ্মণাঃ ক্ষত্রিয়া বৈশ্যাঃ শূদ্রা অন্যেহন্ত্যজাস্তথা।
হরিভক্তিপ্রপন্না যে তে কৃতার্থা ন সংশয়ঃ।।২
হরেরভক্তো বিপ্রোঽপি বিজ্ঞেয়ঃ শ্বপচাধিক।
হরের্ভক্তঃ শ্বপাকোঽপি বিজ্ঞেয়ো ব্রাহ্মণাধিকঃ
স কথং ব্রাহ্মণো যস্তু হরিভক্তিবিবর্জিত।
স কথং শ্বপচো যস্তু হরিভক্তিপরায়ণঃ ॥৩
অব্যাজেন যদা বিষ্ণুঃ শ্বপাকেনাপি পুজ্যতে।।
তদা পশ্যেত্তমপ্যেষশ্চতুর্ব্বেদিদ্বিজাধিকম্। ৪
[ পদ্মপুরাণ, ক্রিয়াযোগসারঃ, ৫।২-৪, ব্যাস উক্তি]
বঙ্গানুবাদঃ
ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র বা অন্য অন্ত্যজ জাতি-যাহারাই হরিভক্তিপ্রপন্ন, তাহারাই নিশ্চিত ধন্য। হরিভক্তিহীন ব্রাহ্মণও চন্ডাল অপেক্ষা অধম বলিয়া বিজ্ঞেয়। আর হরিভক্ত চন্ডালও ব্রাহ্মণ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ বলিয়া জানিবে। যিনি হরি ভক্তিহীন, তিনি কিরূপে ব্রাহ্মণ হইবেন? আর যে হরিভক্তিপরায়ণ, সে কিরূপে চন্ডাল হইবে? যে মুহূর্তে চন্ডালও অকপট ভাবে বিষ্ণুপূজা করে, তখন বিষ্ণু তাহাকে চতুর্ব্বেদী ব্রাহ্মণ অপেক্ষাও শ্রেষ্ঠ হিসেবে অবলোকল করেন।
বিপ্রাদ দ্বিষড়গুণযুতাদরবিন্দনাভ-
পাদারবিন্দবিমুখাৎ শ্বপচং বরিষ্ঠম্
মন্যে তদর্পিতমনোবচনেহিতার্থ-
প্রাণং পুনাতি স কুলং ন তু ভূরিমানঃ ॥
[ শ্রীমদ্ভাগবতম ৯।৯।১০ ]
বঙ্গানুবাদঃ
ভগবানের শ্রীপাদপদ্ম-বিমুখ অভক্ত-ব্রাহ্মণ বারোটি ব্রাহ্মণোচিত গুণে ভূষিত হলেও তার অপেক্ষা যাঁর মন, বাক্য, কর্ম, ধন এবং প্রাণ ভগবান শ্রীহরিতে অর্পিত, সেই চণ্ডালও শ্রেষ্ঠ। এই প্রকার চন্ডালভক্ত-ও সেই রকম ব্রাহ্মণ অপেক্ষাও শ্রেষ্ঠ, কারণ ভগবদভক্ত তাঁর কুল পবিত্র করতে পারে, কিন্তু সেই অতি গর্বান্বিত ব্রাহ্মণ নিজেকেও পবিত্র করতে পারে না, নিজের ব্রাহ্মণকূল উদ্ধার তো দূরের কথা।
(উল্লেখ্য: এ শ্লোকটি মহাভারতের ‘সনৎসুজাত উপপর্বে’-ও বর্ণিত)
————————————————————————————————————————————————
বর্ণসঙ্কর বৈষ্ণব কি দীক্ষাগুরু হতে পারে?
প্রামাণিক শাস্ত্র হতে বহু বহু দীক্ষাগুরুর দৃষ্টান্ত আমরা দেখতে পাই, যারা জন্ম দ্বারা বর্ণসঙ্কর হলেও পরবর্তীতে বিষ্ণুভক্তির অনুশীলন করে মহান বৈষ্ণবাচার্য্যে পরিণত হয়েছেন এবং দীক্ষাগুরু হয়ে বৈষ্ণবধর্মের প্রচার করেছেন। আসুন, আমরা ৩টি শাস্ত্র দৃষ্টান্ত দেখি!
১) শ্রীকৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস:
মহর্ষি বেদব্যাসের পিতা পরাশর মুনি ছিলেন ব্রাহ্মণ এবং মাতা সত্যবতী ছিলেন ক্ষত্রিয় উত্থানপাদের ঔরস ও মৎস্যগর্ভে জাত। তিনি ব্রহ্ম-মধ্ব-গৌড়ীয় সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান দীক্ষাগুরু।
২) মহামুনি মতঙ্গ:
শূদ্র নাপিতের ঔরসে কামোন্মত্তা ব্রাহ্মণীর গর্ভে জন্ম, অতএব জাতিতে চণ্ডাল ছিলেন।
৩) ঋষিশৃঙ্গ মুনি:
ঋষিশৃঙ্গ মুনি ছিলেন বিভাশুক মুনি ও ব্যাশা পুত্র। তথাপি তিনি ত্রিলোকে পূজ্য ছিলেন এবং রাজা দশরথের যজ্ঞদীক্ষাগুরু ছিলেন।
পদ্মপুরাণেও অসৎকূলেজাত মহান বৈষ্ণব দীক্ষাগুরুগণের দৃষ্টান্ত দেওয়া হয়েছে-
ব্রহ্মোবাচ। সচ্ছ্রোত্রিয়কুলে জাতো হ্যক্রিয়ো নৈব পূজিতঃ।। অসৎক্ষেত্রকুলে পূজ্যো ব্যাসবৈভাণ্ডকৌ যথা …. বেশ্যাপুত্রো বসিষ্ঠশ্চ অন্যে সিদ্ধা দ্বিজাদয়ঃ ॥
[ পদ্মপুরাণ, সৃষ্টিখন্ডম, ৪৬।২৭-২৮]
অনুবাদ:
ব্রহ্মা কহিলেন,- “শ্রোত্রিয় কুলজাত হয়েও যিনি অসৎ কর্মে লিপ্ত হন তিনি পূজ্য নহে, পরন্তু ব্যাসদেব ও ঋষ্যশৃঙ্গের ন্যায় অসৎকূলজ ব্যক্তিও সদাচার পরায়ণ হইলে পূজ্য হইয়া থাকেন…….বেশ্যাপুত্র বশিষ্ঠও সমাজে সমধিক সম্মান পান, এরকম আরও বহু বহু সিদ্ধ দ্বিজ আছে।”
————————————————————————————————————————————————
হয়গ্রীব পাঞ্চরাত্রে বলেছে, শৈব, সৌর, অনৈচ্ছিক, নগ্ন, বর্ণসঙ্কর, অপবিত্র, বৃদ্ধ, কুৎচ্ছিৎ অঙ্গ, মহাপাতকী চিহ্নযুক্ত ব্যক্তি গুরু হতে পারেন না। তাহলে সমাজে বর্ণসঙ্করগণ কিরূপে গুরু হচ্ছেন?
উত্তরঃ
হয়গ্রীব পাঞ্চরাত্রের উক্ত শ্লোকে যে সকল দোষ চিহ্নিত হয়েছে সেগুলো সকল অবৈষ্ণব ব্যক্তির ক্ষেত্রে বুঝতে হবে। যেমন, শুকদেব গোস্বামী ‘নগ্ন’ হয়েও, ব্যাসদেব-অষ্টবক্রমুনি ইত্যাদিগণ মুনি দেখতে সুদর্শন না হলেও, বিশ্বামিত্রের মতো ‘ব্রহ্মঘাতি’ ব্যক্তিও কিংবা বশিষ্ঠাদি মুনির মতো ‘বৃদ্ধ’ হয়েও দীক্ষাগুরু হওয়ার ভুরী ভুরী দৃষ্টান্ত আছে। অতএব, হয়গ্রীব পাঞ্চরাত্রের উক্ত বাক্যের দোষগুলো অবৈষ্ণবের জন্য বুঝতে হবে।
ঠিক একই কারণে, হয়গ্রীব শাস্ত্রের উক্ত শ্লোকে বর্ণসঙ্কর দ্বারা অবৈষ্ণব বর্ণসঙ্করকে বুঝিয়েছে। যোনীগত বর্ণসঙ্করের
জন্মদোষ থাকায় তিনি দীক্ষাদানে অযোগ্য। কিন্তু বর্ণসঙ্করী ব্যক্তি যদি বিষ্ণুভক্তিকে আশ্রয় করে নিষ্ঠাবান বৈষ্ণব হন, তবে তার সমস্ত দোষ দূরীভূত হয়ে যায় এবং তিনি দীক্ষা দ্বারা বৈষ্ণবধর্মের প্রচার করে ত্রিজগতকে পবিত্র করেন। প্রমাণ-
বৈষ্ণবেষু গুণাঃ সর্ব্বে দোষ লেশো ন বিদ্যতে ৷
তস্মাচ্চতুর্মুখ ত্বঞ্চ বৈষ্ণবো ভব সাম্প্রতম্ ৷৷
(পদ্মপুরাণ, যোগক্রিয়াসার)
অনুবাদ:
ভগবান বিষ্ণু বললেন, “হে চতুর্মুখ ব্রহ্মা ! বৈষ্ণবে সবই গুণ, বৈষ্ণবে কোন দোষের লেশমাত্র নাই ৷ অতএব, তুমি সত্ত্বর বৈষ্ণব হও ৷”
শ্বপাকমপি নেক্ষেত লোকেষ্টং বৈশ্য বৈষ্ণবম।
বৈষ্ণবো বর্ণবাহ্যোহপি পুনাতি ভুবনত্রয়ম।।
(পদ্মপুরাণ, স্বর্গখন্ডম, ১৫।১৫২)
অনুবাদঃ
কেউ যদি কুকুর মাংসভোজী কূলে জন্মেও পরবর্তীতে লোক-ইষ্টকারী বৈষ্ণব হন, তবে তাকে ঘৃণা করবে না। বর্ণবাহ্য(অন্ত্যজ) ব্যক্তিও যদি বৈষ্ণব হন, তবে তিনি ত্রিভুবনকে পবিত্র করেন।
মহর্ষি বেদব্যাস, মহামুনি মতঙ্গ, ব্রহ্মর্ষি বশিষ্ঠ, ঋষিশৃঙ্গ প্রভৃতি বর্ণসঙ্কর দীক্ষাগুরু দৃষ্টান্ত পূর্বেই ব্যাখা করা হয়েছে।
————————————————————————————————————————————————
উপসংহার:
পদ্মপুরাণে (উত্তরখন্ড, ৬৮।১৯) উল্লেখ আছে-
যথা বিষ্ণুস্তথাচায়ং নান্তরং বর্ত্ততে ক্বচিৎ।
ইতি জ্ঞাত্বা তু ভো বৎস সর্ব্বদা পূজয়েদবুধঃ।
বঙ্গানুবাদঃ
যেমন বিষ্ণু, তেমনই বৈষ্ণব, উভয়ের ভেদ কোথাও নেই। বৎস! ইহা বুঝিয়া বিজ্ঞগণ সর্বদা বৈষ্ণবের পূজা করিবেন।
বৈষ্ণবগণ ভগবান বিষ্ণুর মতোই পবিত্র, এমনকি ভুবনপবিত্রকারী গঙ্গাও বৈষ্ণবের পদস্পর্শে নিজেকে পবিত্র করেন। যারা বৈষ্ণবের উপর জাতিত্বের প্রশ্ন তুলে তারা নরকের কীট। ভগবান তাদের সুমতি দিক। শ্রীগুরুগৌরাঙ্গের চরণে আমাদের এ প্রার্থনা।
কৃষ্ণভক্ত জন হয় ব্রাহ্মণ হৈতে বড়।
যিঁহো শাস্ত্র জানে তিঁহো মানে করি দৃঢ়।।
কৃষ্ণ দীক্ষায় দ্বিজত্ব লাভ শাস্ত্রের বচন।
ইথে অবিশ্বাস যায় নরক ভবন।।
(প্রেমবিলাস, ১৯শ বিলাস)
হরে কৃষ্ণ!
~ ব্রজসখা দাস
© স্বধর্মম্ ™