আমাদের সমাজে কিছু শাস্ত্রজ্ঞানহীন ভগবৎ-বিদ্বেষী ব্যক্তি আছে, যারা শ্রীকৃষ্ণকে তাদের মতোই সাধারণ মানুষ মনে করে। অথচ মহাভারত শাস্ত্রে শ্রীকৃষ্ণকে পরমেশ্বর ভগবান বলা হয়েছে, স্বয়ং চতুর্ভুজ বিষ্ণু বলা হয়েছে।
অনুগ্রহার্থং লোকানাং বিষ্ণুলোক নমস্কৃতঃ।
বসুদেবাত্তু দেবক্যাং প্রাদুর্ভূতো মহাযশাঃ।।
( মহাভারত, আদিপর্ব, ৫৮/১৩৮ )
অনুবাদ:
ত্রিজগতের পূজনীয় মহাযশস্বী স্বয়ং বিষ্ণু লোকের প্রতি অনুগ্রহ করিবার জন্য বসুদেব-দেবকীতে আবির্ভূত হইয়া ছিলেন।
কিন্তু তার পরেও এ সমস্ত অজ্ঞানী মানুষেরা তাদের আসুরিক মতকে প্রচার করতে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের অন্তর্ধান লীলা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার করতেছে, যা অশাস্ত্রীয়, ঘৃন্য এবং আসুরিক। অথচ মহাভারত শাস্ত্রের মৌষলপর্ব পাঠ করে আমরা সহজে জানতে পারি, পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ নিজে তার অন্তর্ধানের সময় নির্ধারন করেছিলেন। তখন তিনি একটি বৃক্ষের উপর চতুর্ভূজ বিষ্ণুরুপে অবস্থান করেছিলেন। শ্রীকৃষ্ণের ইচ্ছার প্রভাবে শ্রীকৃষ্ণ স্বশরীরে প্রথমে স্বর্গে এবং পরে বৈকুন্ঠ জগতে প্রবেশ করেন।
অসুরেরা যেহেতু মহাভারত শাস্ত্র উক্ত শ্রীকৃষ্ণকে বিষ্ণুরুপে মানে না, পরমেশ্বর ভগবানরুপে মানে না, তাই তারা মহাভারত শাস্ত্রের এসমস্ত জ্ঞান সাধারন মানুষের মাঝে প্রচার না করে এর বিপরীতে অশাস্ত্রীয় ভাবে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অন্তর্ধান লীলা নিয়ে অপপ্রচার করছে। নিম্নে মহাভারতের মৌষল পর্ব অবলম্বনে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের অন্তর্ধান লীলা রহস্যের সত্য ইতিহাস পরিবেশিত হল….
ভগবান শ্রীকৃষ্ণের অন্তর্ধান লীলা:
বৃষ্ণিবংশ বা যদুবংশ ধ্বংস হওয়ার পর-
ততো গত্বা কেশবস্তুং দদর্শ রামং বনে স্থিতমেকং বিবিক্তে ॥১২৷৷ অথাপশ্যযোগযুক্তস্য তস্য নাগং মুখানিঃসরন্তং মহান্তম্। শ্বেতং যযৌ সততঃ প্রেক্ষ্যমাণে। মহার্ণবে যেন মহানুভাবঃ ॥১৩৷৷ সহস্রশীর্ষঃ পর্ব্বতাভোগবর্ষ্ম। রক্তাননঃ স্বাং তনুং তাং বিমুচ্য। সম্যক্ চ তং সাগরঃ প্রত্যগৃহ্লান্নাগা দিব্যাঃ সরিতশ্চৈব পুণ্যাঃ ॥১৪৷
( মহাভারত, মৌষলপর্ব ৪/১২-১৪ )
অনুবাদঃতাহার পর কৃষ্ণ যাইয়া নির্জন বনস্থিত একাকী বলরামকে দেখিলেন। ১২।। আরও দেখিলেন যে, যোগপ্রবৃত্ত বলরামের মুখ হইতে একটা শ্বেতবর্ণ বিশাল নাগ নির্গত হইতেছে। সেই নাগ নির্গত হইয়া মহাসমুদ্রে প্রবেশ করিল। যেহেতু, সে মহাপ্রভাবশালী ছিল। ১৩।।সহস্র মস্তক পর্ব্বতের ন্যায় বিশাল দেহ ও রক্তমুখ সেই নাগ নিজ বলরাম- দেহ পরিত্যাগ করিয়া সাগরজলে প্রবেশ করিলেন। তখন সাগরও আদরের সহিত তাঁহাকে গ্রহণ করিল এবং দিব্য নাগসমূহ ও পুণ্য নদীসকলও তাঁহাকে গ্রহণ করিল।” ১৪।।
ভগবান বলরামের এরুপ অন্তর্ধানের পর:-
ততো গতে ভ্রাতরি বাসুদেবো জানন্ সর্বা গতয়ো দিব্যদৃষ্টিঃ ॥১৭৷ বনে শূন্যে বিচরংশ্চিন্তয়ানো ভূমৌ চাথ সংবিবেশাগ্র্যতেজাঃ। সর্বং তেন প্রাক্ তদা চিন্ত্যমাসীদ্গান্ধাৰ্য্যা যদ্বাক্যমুক্তঃ স পূর্ব্বম ॥১৮৷৷
( মহাভারত, মৌষলপর্ব ৪/১৭-১৮)
অনুবাদঃ”এইভাবে ভ্রাতা বলরাম মর্ত্যলোক হইতে প্রস্থান করিলে দিব্যজ্ঞানশালী কৃষ্ণ সকলেরই সমস্ত অবস্থা জানিতে পারিয়া চিন্তাকুল চিত্তে শূন্য বনে বিচরণ করিতে করিতে ভূতলে শয়ন করিলেন এবং পূর্ব্বে গান্ধারী যে বাক্য বলিয়াছিলেন, মহাতেজা কৃষ্ণ তখন সেই সমস্তই চিন্তা করিতে লাগিলেন।”১৭-১৮৷৷
দুর্বাসসা পায়সোচ্ছিষ্টলিপ্তে যচ্চাপ্যুক্তং তচ্চ সম্মার কৃষ্ণঃ। সঞ্চিন্তয়ন্নন্ধকবৃষ্ণিনাশং কুরুক্ষয়ঞ্চৈব মহানুভাবঃ ॥১৯৷৷ যেনে ততঃ সংক্রমণস্য কালং ততশ্চকারেন্দ্রিযসংনিরোধম্। যথা চ লোকত্রয়পালনার্থং দুর্বাসবাক্যপ্রতিপালনায় ॥২০॥ দেবোহপি সন্দেহবিমোক্ষহেতোনির্ণীত মৈচ্ছৎ সকলার্থতত্ত্ববিৎ। স সংনিরুদ্ধেন্দ্রিয়বাঙ্মনাস্ত শিশ্যে মহাযোগমুপেত্য কৃষ্ণঃ ॥২১৷ জরোহথ তং দেশমুপাজগাম লুব্ধস্তদানীং মৃগলিপ্স রুগ্রঃ। স কেশবং যোগযুক্তং শযানং মৃগাশঙ্কী লুব্ধকঃ সাযকেন ॥২২॥ জরোহবিধাৎ পাদতলে ত্বরাবাংস্তং চাভিতস্তজ্জিবৃক্ষুর্জগাম। অথাপশ্যৎ পুরুষং যোগযুক্তং পীতাম্বরং লুব্ধকোহনেকবাহুম্ ॥২৩৷৷
(মহাভারত, মৌষলপর্ব ৪/১৯-২৩)
মহানুভাব কৃষ্ণ যদুবংশ ধ্বংস ও কুরুবংশ বিনাশ ভাবিতে থাকিয়া দুর্ব্বাসার উচ্ছিষ্ট পায়স দ্বারা ভূমি লিপ্ত করিয়া যাহা বলিয়াছিলেন, দুর্ব্বাসার সেই বাক্য স্মরণ করিলেন।১৯।।তাহার পর কৃষ্ণ সেই সময়টাই নিজের প্রস্থানের সময় মনে করিলেন। পরে তিনি ত্রিভুবন পালন করিবার জন্য এবং দুর্ব্বাসার বাক্য রক্ষা করিবার নিমিত্ত ইন্দ্রিয়গণকে নিরুদ্ধ করিলেন।২০॥ সকলার্থতত্ত্বজ্ঞ কৃষ্ণও সন্দেহ দূর করিবার জন্য নিশ্চিত বিষয় কামনা করিলেন। তখন কৃষ্ণ মহাযোগ অবলম্বন করিয়া ইন্দ্রিয়, বাক্য ও মনকে নিরুদ্ধ রাখিয়া ভূতলে শয়ন করিলেন।২১॥তাহার পর উগ্রমূর্ত্তি ও হরিণলিপ্সু জরানামক এক ব্যাধ সেই সময়ে সেই স্থানে আগমন করিল এবং মৃগ মনে করিয়া বাণদ্বারা যোগযুক্ত অবস্থায় শায়িত কৃষ্ণের পদতলে বিদ্ধ করিল, পরে ত্বরান্বিত হইয়া সেই বিদ্ধ মৃগকে গ্রহণ করিতে ইচ্ছা কবিয়া তাহার নিকট গমন করিল। তদনন্তর সে দেখিল-অনেক বাহু, পীতাম্বরপরিধায়ী ও যোগযুক্ত একটা পুরুষ শায়িত রহিয়াছেন।২২-২৩॥
বিশ্লেষণঃ উপরোক্ত বর্ণনা থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ যখন দর্শন করলেন বলরাম সমুদ্রে লীন হলেন তখন তিনি সেই সময়টিকেই নিজের প্রস্থানের সময় মনে করেছিলেন। অর্থাৎ ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এই জড় জগত ত্যাগ করার সময় নিজেই নির্ধারণ করেছিলেন। সুতারাং যারা শ্রীকৃষ্ণকে পরমেশ্বর ভগবানরুপে স্বীকার করতে চায় না, তাদের কাছে আমাদের জিজ্ঞাসা, শ্রীকৃষ্ণ যদি পরমেশ্বর ভগবান না হন, তাহলে তিনি কিভাবে জড় জগত ত্যাগের সময় নিজেই নির্ধারণ করতে পারেন? এরপর দেখা যাক, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের অন্তর্ধান লীলার পরবর্তী অংশ।
মহাত্মানং ত্বপরাদ্ধং স তস্য পাদৌ জরো জগৃহে শঙ্কিতাত্মা।আশ্বাসিতঃ পুণ্যফলেন ভক্ত্যা তথানুতাপাৎ কৰ্ম্মণো জন্মনশ্চ।।২৪।।
(মহাভারত, মৌষলপর্ব ৪/২৪)
অনুবাদঃ”সেই জরা নামক ব্যাধ নিজেকে অপরাধী মনে করিয়া উদ্বিগ্ন চিত্ত হইয়া শ্রীকৃষ্ণের চরণযুগল ধারণ করিল। তখন তাহার পুণ্য, ভক্তি এবং নিজের দুষ্কর্ম ও জন্ম বিষয়ে অনুতাপ করায় কৃষ্ণ তাহাকে আশ্বস্ত করিলেন।”
বিশ্লেষণঃ উপরোক্ত শ্রীকৃষ্ণের অন্তর্ধান লীলার এ অংশে আমরা বুঝতে পারি যে, জরা নামক ব্যাধ শ্রীকৃষ্ণকে মৃগ বা হরিণ মনে করে বাণ নিক্ষেপ করেছিলেন এবং ব্যাধ যখন তীরবিদ্ধ মৃগকে নিতে আসলেন তখন তিনি দেখলেন সেখানে কোন মৃগ নেই বরং সেখানে অসংখ্য হস্তধারী স্বয়ং বিষ্ণু শায়িত আছেন। এখান থেকে স্পষ্ট প্রমানিত হয় যে, শ্রীকৃষ্ণ কখনো কোন সাধারন মানুষ নন, তিনি হলেন স্বয়ং পরমেশ্বর ভগবান শ্রীবিষ্ণু। সুতারাং অসুরেরা যে প্রচার করছেন যে, শ্রীকৃষ্ণ জরা নামক ব্যাধের তীরে মারা গেছেন, প্রকৃতপক্ষে তা হল মিথ্যা প্রচার, কারণ শ্রীবিষ্ণু, যিনি স্বয়ং পরমেশ্বর ভগবান, তার কখনো মৃত্যু হতে পারে না।এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে নিম্নে আলোচনা করা হয়েছে। যাহোক ব্যাধ অনেকবাহু শ্রীবিষ্ণুকে ( শ্রীকৃষ্ণ) দর্শন করা মাত্রই নিজের কর্মকে দূষ্কর্ম ও জন্ম বিষয়ে অনুতাপ করলে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন। এরপর
দৃষ্টা তথা দেবমন্তবীর্য্যং দেবৈঃ স্বর্গং প্রাপিতস্ত্যক্তদেহ।গণৈমুনীণাং পূজিতস্তত্র কৃষ্ণো গচ্ছন্নদ্ধং ব্যাপ্য লোকান স লক্ষ্যা।। ২৫।।দিব্যং প্রাপ্তয় বাসবোহথাশ্বণৌ চ রুদ্রাদিত্যা বসবশ্চাথ বিশ্বে।প্রত্যু্যদৃযষুমুর্নয়শ্চাপি সিদ্ধা গন্ধর্বমুখ্যাশ্চ সহাপ্সরোভব।।২৬।। ততো রাজন! ভগবানুগ্রতেজা নারায়নঃ প্রভবশ্চাব্যয়শ্চ।যোগাচার্য্যো রোদসী ব্যাপ্য লক্ষ্যা স্থাং প্রাপ স্বং মহাত্মহপ্রমেয়ম।।২৭।।
( মহাভারত, মৌষলপর্ব ৪/২৫-২৭ )
অনুবাদ:
দেবগণ অনন্তবীর্য নারায়ণকে (শ্রীকৃষ্ণ) দর্শন করিয়া ব্যাধের দেহকে রাখিয়া ব্যাধকে স্বর্গে লইয়া গিয়াছিলেন এবং শ্রীকৃষ্ণ আপন কান্তিদ্বারা জগৎ ব্যাপ্ত করে উর্দ্ধদিকে গমন করিতে লাগিলেন তখন মুনিগণ শ্রীকৃষ্ণের পূজা করিতে লাগিলেন।২৫।। শ্রীকৃষ্ণ স্বর্গে উপস্থিত হইলে ইন্দ্র,অশ্বিনীকুমারদ্বয়,একাদশ রুদ্র,দ্বাদশ আদিত্য,অষ্টবসু, বিশ্বদেবগণ,সিগ্ধ মুনিগণ এবং অপ্সরাদের সাথে গন্ধর্বশ্রেষ্টগণ তাহার (কৃষ্ণের) প্রত্যুদ্গমন (আরাধনা) করিয়াছিলেন।২৬।। তাহার পর ভীষণতেজা, জগতের উৎপাদক, অবিনশ্বর, যোগ শিক্ষক, মহাত্মা ভগবান নারায়ন ( শ্রীকৃষ্ণ) আপন কান্তিদ্বারা স্বর্গ,মর্ত্ত্য ব্যাপ্ত করিয়া সাধারণের অর্জ্ঞেয় স্বকীয় বৈকুণ্ঠধাম গমন করিয়াছিলেন।২৭।।
বিশ্লেষণ:
উপরোক্ত মহাভারতের আলোচনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অনেকবাহু ধারন করে স্বশরীরে প্রথমে স্বর্গ এরপর তার স্বীয় চিন্ময় বৈকুন্ঠ জগতে প্রবেশ করেছিলেন। এ সম্পর্কে ভাগবতেও একই তথ্য পরিবেশিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে..
লোকাভিরামাং স্বতনুং ধারানাধ্যানমঙ্গলম।
যোগধারনয়াগ্নেয়্যাদগ্ধা ধামাবিশ্য স্বকর্ম।।
( শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণ ১১/৩১/০৬ )
অনুবাদ:
“সর্বজগতের সর্বাকর্ষক বিশ্রামস্থল, এবং সর্বপ্রকারের ধ্যান ও মননের বিষয়,ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তার দিব্য শরীরে আগ্নেয় নামক অলৌকিক ধ্যানের প্রয়োগে দগ্ধ না করিয়া তার স্বীয় ধামে গমন করিয়াছিলেন।”
পরিশেষে উপরোক্ত মহাভারত এবং শ্রীমদ্ভাগবতের বর্ণনায় স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়,পরমেশ্বর ভগবানরুপে শ্রীকৃষ্ণের কখনো মৃত্যু হয় নি,কারন পরমেশ্বর ভগবান রুপে তার দেহ চিন্ময়।তাই তিনি তার অন্তর্ধানের সময় নিজেই নির্ধারন করেছিলেন,এবং মনুষ্যলোক পরিত্যাগ করে স্বশরীরে প্রথমে স্বর্গ এবং এরপর বৈকুন্ঠ জগতে প্রবেশ করেছিলেন।শ্রীকৃষ্ণ হলেন স্বয়ং বিষ্ণু। যেহেতু শ্রীকৃষ্ণ তার অন্তর্ধানের সময় চতুর্ভূজ রুপ ধারন করেছিলেন তাই তিনি এই চতুর্ভূজ রুপে স্বশরীরে বৈকুন্ঠে ফিরে গিয়েছিলেন।
।। হরে কৃষ্ণ।।
সংকলনে: সদগুণ মাধব দাস
[ বি:দ্র: স্বধর্মম্-এর অনুমোদন ব্যাতীত এই গবেষণামূলক লেখার কোনো অংশ পুনরুৎপাদন, ব্যবহার, কপি পেস্ট নিষিদ্ধ। স্বধর্মম্-এর সৌজন্যে শেয়ার করার জন্য উন্মুক্ত ]
নিবেদক-
° স্বধর্মম্: প্রশ্ন করুন | উত্তর পাবেন °